চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্যানোটেকনোলজির ব্যবহার হতে পারে- 

i. এন্ডোসকপি 

ii. এক্স-রে 

iii. কলোনোস্কোপি 

নিচের কোনটি সঠিক?

Updated: 10 months ago
  • ক
    i ও ii
  • খ
    i ও iii
  • গ
    ii ও iii
  • ঘ
    i ii ও iii
1.2k
ব্যাখ্যাঃ

চিকিৎসা ক্ষেত্রে ন্যানোটেকনোলজির (nanotechnology) ব্যবহার দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে এবং এটি রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে। ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অতি ক্ষুদ্র ডিভাইস, কণা বা পদ্ধতি তৈরি করা হয় যা মানবদেহের অভ্যন্তরে সুনির্দিষ্ট কাজ করতে সক্ষম। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

        
  •         i. এন্ডোসকপি (Endoscopy): ঐতিহ্যবাহী এন্ডোসকপি হলো একটি তারযুক্ত বা তারবিহীন ক্যামেরা টিউব ব্যবহার করে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ পরীক্ষা করা। ন্যানোপ্রযুক্তির মাধ্যমে এর সক্ষমতা অনেক বাড়ানো সম্ভব। যেমন, 'স্মার্ট পিল' বা ন্যানো-ক্যাপসুল তৈরি করা যায় যা রোগীর হজমতন্ত্রের ভেতর দিয়ে গিয়ে ছবি তুলতে পারে, বায়োপসি নিতে পারে অথবা নির্দিষ্ট স্থানে ঔষধ সরবরাহ করতে পারে। এটি প্রচলিত এন্ডোসকপির চেয়ে কম আক্রমণাত্মক এবং আরও নির্ভুল হতে পারে।     
  •     
  •         ii. এক্স-রে (X-ray): এক্স-রে একটি প্রচলিত ইমেজিং পদ্ধতি। ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে এক্স-রে ইমেজিংয়ের মান উন্নত করা যায়। ন্যানো-কণাগুলিকে কন্ট্রাস্ট এজেন্ট (contrast agent) হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে যা শরীরের নির্দিষ্ট টিস্যু বা টিউমারকে এক্স-রেতে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এতে রোগ নির্ণয় আরও সূক্ষ্ম ও দ্রুত হয় এবং রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ সহজ হয়।     
  •     
  •         iii. কলোনোস্কোপি (Colonoscopy): কলোনোস্কোপি হলো বৃহৎ অন্ত্র (colon) পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ এন্ডোসকপি পদ্ধতি। এন্ডোসকপির মতোই, ন্যানোপ্রযুক্তি এখানে 'স্মার্ট পিল' বা ন্যানো-রোবট (nano-robot) এর মতো সমাধান দিতে পারে। এই ন্যানো-ক্যাপসুলগুলি কোলনের মধ্যেকার অস্বাভাবিকতা, যেমন পলিপ বা ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করতে পারে, এবং প্রয়োজনে ঔষধ সরবরাহ করতে পারে, যা প্রচলিত কলোনোস্কোপির অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।     

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, এন্ডোসকপি, এক্স-রে এবং কলোনোস্কোপি - এই তিনটি ক্ষেত্রেই ন্যানোটেকনোলজির বিভিন্ন ব্যবহার বা প্রয়োগ সম্ভব। তাই, i, ii ও iii তিনটিই সঠিক।

Satt AI
Satt AI
3 months ago

109 মিটারকে ন্যানোমিটার বলে এবং বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে 1 থেকে 100 ন্যানোমিটার আকৃতির কোনো কিছু তৈরি করা এবং ব্যবহার করাকে ন্যানোটেকনোলজি বলে। এই আকৃতির কোনো কিছু তৈরি করা হলে তাকে সাধারণভাবে ন্যানো-পার্টিকেল বলে। ক্ষুদ্র আকৃতির জন্য ন্যানো পার্টিকেলের পৃষ্ঠদেশের পরিমাণ তুলনামুলকভাবে অনেক বেশি; সেজন্য রাসায়নিকভাবে অনেক বেশি ক্রিয়াশীল হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, একটি দ্রব্যের বড় আকৃতিতে যে ধর্ম বা গুণাগুণ থাকে, ন্যানো পার্টিকেল হলে তার ভেতর কোয়ান্টাম পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাব দেখা যেতে শুরু করে বলে সেই ধৰ্ম বা গুণাগুন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। উদাহরণ দেওয়ার জন্য বলা যায় অনেক ধাতুর কাঠিন্য ন্যানো আকৃতিতে সাধারণ অবস্থা থেকে সাতগুণ বেশি হতে পারে। এই কারণে এই ন্যানো-পার্টিকেল নিয়ে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে কৌতুহলী।

রসায়নবিদেরা অনেকদিন থেকে ন্যানো ব্যাসার্ধের পলিমার তৈরি করে আসছেন এবং ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের চিপস তৈরি করার সময় প্রযুক্তিবিদেরা সেখানে ন্যানো আকৃতির ডিজাইন করে আসছেন, কিন্তু শুধু সাম্প্রতিক সময়ে ন্যানো পার্টিকেল তৈরি এবং ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় টুল তৈরি হয়েছে এবং ন্যানো পার্টিকেলের জগৎ সত্যিকার অর্থে উন্মুক্ত হয়েছে।

 

এ প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বৃহৎ স্কেলে পণ্যোৎপাদন সম্ভব হচ্ছে এবং উৎপাদিত পণ্য আকারে সুক্ষ্ম ও ছোট হলেও অত্যন্ত মজবুত, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, টেকসই ও হালকা হয়। “আগামী বিশ্ব হবে ন্যানোটেকনোলজির বিশ্ব, — এই প্রতিবাদ্যকে সামনে রেখে স্মার্ট ওষুধের মাধ্যমে প্রাণঘাতী ক্যান্সার ইত্যাদি দুরারোগ্য ব্যাধি হতে মুক্তি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ন্যানো রোবট, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বিশ্বব্যাপী বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কার্যকরী ও সপ্তার শক্তি উৎপাদনসহ পানি ও বায়ুদূষণ কষানো সম্ভব হৰে মৰ্মে গবেষকগণ আমাদের আশার বাণী শুনিয়েছেন। ন্যানো প্রযুক্তি দুটি পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয় :

(ক) ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ (Bottom Up) : এই পদ্ধতিতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুর আনবিক উপাদান থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে বড় কোনো জিনিস তৈরি করা হয়।

(খ) বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র (Top Down) : এই পদ্ধতিতে একটু বড় আকৃতির কিছু থেকে শুরু করে তাকে ভেঙে ছোট করতে করতে কোনো বস্তুকে ক্ষুদ্রাকৃতির আকৃতিতে পরিণত করা হয়।

ন্যানো প্রযুক্তির ব্যবহার

১. কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারে ব্যবহার : প্রসেসরের উচ্চ গতি, দীর্ঘস্থায়িত্ব, কম শক্তি খরচ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যে

ব্যবহার্য। একই সঙ্গে ডিসপ্লে ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির উন্নয়নে সহায়তা করে। ২. চিকিৎসা ক্ষেত্রে : ন্যানো-রোবট ব্যবহার করে অপারেশন করা, যেমন- এনজিওপ্লাস্টি সরাসরি রোগাক্রান্ত সেনে চিকিৎসা প্রদান করা, যেমন— ন্যানো ক্রায়োসার্জারি, ডায়াগনোসিস করা, যেমন-

এন্ডোসকপি, এনজিওগ্রাম, কলোনোস্কোপি ইত্যাদি।

৩. বাদ্যশিল্পে : খাদ্যজাত দ্রব্য প্যাকেটিং, খাদ্যে স্বাদ তৈরিতে, খাদ্যের গুণাগুণ রক্ষার্থে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের দ্রব্যাদি তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। ৪. গানি ক্ষেত্রে জ্বালানি উৎসের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ফুয়েল তৈরির কাজে, যেমন-

হাইড্রোজেন আয়ন থেকে ফুয়েল, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সৌরকোষ তৈরির কাজে। e. যোগাযোগ ক্ষেত্রে : হালকা ওজনের ও কম জ্বালানি চাহিদাসম্পন্ন পাড়ি প্রস্তুতকরণে।

৬. খেলাধুলার সামগ্রী তৈরিতে : বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সামগ্রী যেমন— ক্রিকেট, টেনিস বলের স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য, ফুটবল বা গলফ বলের বাতাসের ভারসাম্য রক্ষার্থে।

৭. বায়ু ও পানি দূষণ রোধে : শিল্প কারখানার ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্যকে ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহার করে অক্ষতিকর বস্তুতে রূপান্তর করে পানিতে নিষ্কাশিত করা; যেমন— ট্যানারি শিল্পের বর্জ্যকে এই প্রযুক্তির সাহায্যে দূষণমুক্ত করে নদীর পানির দূষণ প্রতিরোধে সহায়তা করে। তেমনিভাবে গাড়ি ও শিল্পকারখানার নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ন্যানো পার্টিকেলের সহায়তায় দূষণমুক্ত গ্যাসে পরিণত করে বায়ু দুষণ রোধ করা যায়।

৮. প্রসাধন শিল্পে : প্রসাধনীতে জিংক অক্সাইড-এর ন্যানো পার্টিকেল যুক্ত হওয়ায় ত্বকের ক্যান্সাররোধ সম্ভব

হয়েছে। সেই সাথে সানস্ক্রিন ও ময়েশ্চারাইজার তৈরির কাজে ব্যবহার্য রাসায়নিক পদার্থ তৈরির ক্ষেত্রে এবং

এন্টি-এজিং ক্রিম তৈরিতেও ন্যানো-টেকনোলজি ব্যবহৃত হয়।

তবে উল্লেখ্য যে ন্যানো পার্টিকেলের ব্যবহারে নানাবিধ সুবিধা থাকলেও অন্যদিকে ন্যানো পার্টিকেল দিয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্র তৈরি, প্রচলিত জ্বালানী গ্যাস-তৈল ইত্যাদির বিকল্প হিসেবে এর অপব্যবহার, অভিজাত শ্রেণির উদ্ভবের দরুন ধনী ও নির্ধনের পার্থক্য চরম মাত্রায় বৃদ্ধি, কালোবাজারী এবং সর্বোপরি মানব শরীরের কোষের গঠনশৈলী পরিবর্তনসহ কোষ মেরে ফেলার মতো ক্ষতিকারক প্রযুক্তি হিসেবে ন্যানো প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থান হতে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়নি।

Related Question

View All
  • ক
    জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
  • খ
    নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং
  • গ
    বায়োইনফরমেটিক্স
  • ঘ
    ন্যানোটেকনোলজি
54
  • ক
    AI
  • খ
    ন্যানোটেক
  • গ
    বায়োমেট্রিক্স
  • ঘ
    বায়োইনফরমেটিক্স
53
  • ক
    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
  • খ
    রোবোটিক্স
  • গ
    ন্যানোটেকনোলজি
  • ঘ
    বায়োইনফরমেটিক্স
822
  • ক
    ক্রায়োসার্জারি
  • খ
    ন্যানোটেকনোলজি
  • গ
    রোবটিক্স
  • ঘ
    বায়োমেট্রিক্স
563
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই